কৃষিবিদ তন্বীর এগিয়ে চলা

কৃষিবিদ ফারজানা রহমান তন্বী 

কৃষি নিয়েই পড়াশুনা, কৃষিতেই ব্যক্তিত্বের প্রকাশ-
আজ শুনবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, দীপ্ত টিভিতে উপস্থাপনা করা ফারজানা রহমান তন্বীর কথা।

বড় হয়েছি আমি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। বাবা হাফিজুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মা মোকারিমা খানম ও বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। এলাকায় স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে।এখন মাস্টার্সে পড়াশোনা করছি।

আমার এই পথচলাতে  সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমার মা।ছোটবেলায় যখন নরসিংদী থেকে ঢাকা শিশু একাডেমিতে
 নিয়ে আসতেন তখন অনেকে অনেক কিছু বলতেন। কিন্তু তিনি সংস্কৃতিমনা ছিলেন।আজকের আমি আমার মায়ের জন্য।

 ২০১৭ সাল ছিল আমার জন্য লাকি ইয়ার।আরটিভি-ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টারে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যাম্পাস স্টার হই।তারপর ভাবছিলাম  কিছু একটা করব।
 যেহেতু আমার কৃষি নিয়েই পড়েছি,আমিত একজন কৃষিবিদ।তাই একটা কৃষি প্রোগ্রাম দিয়ে শুরু করি।পরে, বেসরকারি দীপ্ত টিভিতে জনপ্রিয় দীপ্ত কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা সুযোগ পাই। কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান করতে খুব বেশি ভাল লাগছে। অনুষ্ঠানের সুবাদে ঘোরা হচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে।
তবে এখনো নারীদের উপস্থিতি অনেক কম।আর এতদিন যা পড়েছি মাঠে গিয়ে সেগুলো দেখছি।ভীষণ উপভোগ করি।আর কৃষক ভাইয়েরা গেলেই বলে আপা আপনাকে আমরা চিনি,আপনার অনুষ্ঠান আমরা নিয়মিত দেখি।খুব মিশে যায় তারা।এমনো অভিজ্ঞতা আছে নারী কৃষকরা জড়িয়ে ধরে। খুব আপন করে নেয়।নিজের পরিবারের একজন মনে করেন।
আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েই ছিলাম।ছোটবেলায় বিটিভি, এনটিভিতে গান করতাম শিশু শিল্পী হয়ে।বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী ছিলাম। এতবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি যে কবে প্রথম ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছি ভুলে গেছি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরস্কার জিতেছি।
একদম ছোটবেলায় চাইতাম প্রসেনজিৎ এর নায়িকা হব।বড় হয়ে ইচ্ছা ছিল মডেল হওয়ার। এখন ইচ্ছা একজন কৃষিবিদ হিসেবে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো,মানুষের উপকারে আসা।আর মিডিয়াতে কাজ করাটা আমার ভীষণ ভালোলাগার একটা জায়গা। অবসরে গান শুনতে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে,নাচ করতে, ঘুরতে, প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তে ভালো লাগে।
আমি মনে করি,নারীদের এগিয়ে যাবার জন্য সবার আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে।নির্ভরতা কমাতে হবে।আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল করেছেন।কৃষিকেও ডিজিটাল করব আমরা।সেই পথেই হাঁটছি।আর কৃষির উন্নতি মানে কৃষকের উন্নতি।

Comments